জেনিস মাহমুনের নতুন কবিতা

জেনিস মাহমুন নব্বইয়ের কবি। বন্ধুরা তাকে বলেন 'ওম কবিতামমৃতের কবি'। 'সুফিয়ার গাথার কবি' বলেও তিনি খ্যাত।

স্বভাবে কিছুটা অন্তরালবাসী। ২০১০ সালে বেরুনো প্রত্নকাব্য-এর পর কোনো বইয়ের দেখা নেই তার। ইতিমধ্যে পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়েছে গোটা সাতেক। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘকবিতার একটি। এখানে ১৫টি অপ্রকাশিত কবিতা মুদ্রিত হলো পরস্পরের পাঠকদের জন্য...

 

রূপান্তরের কাব্য


সমাপ্তিবিন্দুর মতো চাঁদ যন্ত্রের হাঁচির আওয়াজের মতো মেঘের আকার ছড়াচ্ছে ফেনাকুঞ্জ, বিজড়িত আবার ভগ্ন। আরো দূরে ফোরম্যানের গর্জন তুলে গ্যালাক্সিরা কর্মমগ্ন পৃথিবীতে পূর্ণ চাঁদ! সমাপ্তিবিন্দুর মতো। আমরা সমবেত। টেবিলে, পার্কে, রেস্তোরাঁয় শহর উত্তীর্ণ ক্লান্তির মহিমায়। বাটখারার ওজনের মতো স্তনে যে নারী সাজিয়েছিল প্রেম তাকে খোঁজে শ্রমের দেবতা, সুগন্ধ তার মনে। চারিদিকে অভিন্ন ভিড়। আমরা এলোমেলো। আমরা নিঃশেষিত। আমরা গভীর! গোলাপি সুঘ্রাণ ফুল ও উলঙ্গ ফলের পাত্র উপচে পড়ছে আঙুর, আখরোট আর মন্থরতমার ঠোঁট স্থায়ী করি ক্লান্তির কাছে আরাম? বিশ্রামের পাশে পানীয় শূন্যতার পাশে নারী। আমাকে বিয়ে করবে ওগো অবর্ণনীয়? চলো করি? গান পারো, চলো গাই, কণ্ঠ মেলাই! আমরা যে এলোমেলো মেশিন হব। সারি বাধি। মুখোমুখি। আলস্য, ক্রীড়া, প্রণয়, খাদ্য, বাদ্য, যৌনতা, নৃত্য উৎপন্ন করি, যত পারি। যত পারি! মেশিনের মুনাফার চেয়ে অন্তত বেশি। শোনো, আমাদেরই পেশি ঘোরায় যন্ত্র আর নারী। গান পারো? চলো গাই  

প্রকৌশলচৈতন্য


মনের মধ্যে ইঞ্জিনের শব্দ নিয়ে ভ্রূণভঙ্গিতে বসে থাকি। গোটানো। থুতনির কাছে হাঁটু। হাঁটুর কাছে উদ্বায়ী শ্বাস, নিজের নির্জনতার গোপন চিহ্ন।

দেহ কি দেয়াল। দেয়ালের ওপারে সচল যন্ত্র। সারাদিন চলছে। শব্দ। শব্দ।

ছোট পুলি বড় পুলিটাকে ঘোরায়।

ছোট আকাশ বড় আকাশকে ঘোরায়। আকাশেরা সংলগ্নতার সম্পর্কে ঘুরছে। আমার এই জ্ঞান, ঘুর্ণনের শাব্দিক প্রতিক্রিয়া এনে দিল মনের মধ্যে। দু’কান চেপে ধরলাম। অসহ্য।

গাছ থেকে আরো শব্দ খসে পড়ল, হলুদ, হলুদাভ। উৎপাদনের বর্জ্য। গাছ আর আকাশের সংলগ্নতার সম্পর্ক।

মানুষ মহাশূন্যে আরোহণ করে। আকাশের সাথে মানুষের অস্তিত্বের সংলগ্নতার রহস্য উন্মোচন করতে চায়। তারার গতিপথ অনুসরণ করে, প্রথম তারা খুঁজে পেয়েছিল বৃষ্টি আর শস্যের সংলগ্নতা।

আমি মেয়েটিকে ভালোবেসেছিলাম। মেয়েটির সাথে আমার সংলগ্নতার সম্পর্ক। মেয়েটি একটি ইঞ্জিন। আমাদের সন্তান হলো। সন্তানটি আরো একটি ইঞ্জিন। আমাদের সঞ্চয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রাখলাম। ব্যাংক একটি ইঞ্জিন।

ঈমাম মৃতের জন্য প্রার্থনা করলেন। ধর্ম একটি ইঞ্জিন। আইন-শৃঙ্খলাকর্মীরা তৎপর। প্রশাসন একটি ইঞ্জিন...

মহাজগৎ সক্রিয়। দেয়ালের ওপারে। বিরতিহীন কোলাহল। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ।শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ।শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ। শব্দ।

 

ভঙ্গিমাগুলো তোমাদের নয়


চেয়ার তোমাকে শেখায় কী ভঙ্গিমা তার চাই তুমি বসে থাকো কাজে ও বিশ্রামে পায়ের মোজাও দেহটাকে নুইয়ে নেয় তোমার নতি স্বীকার বস্তুতে গিয়ে থামে নাচের স্কুল তোমার দেহে ফোটায় তাল লয় মুদ্রার ফুল! ধর্মগ্রন্থগুলো গা থেকে ঝেড়ে নেয় ঐশ্বরিক ধুলো সারাদিনের নানান ভঙ্গিগুলো পুরুষ লুণ্ঠন করে সূর্য আর চাদের পর্বান্তরে তার আরো ভঙ্গিমা চাই!  

সভ্যতা


পাথরের হয়ে থাকা দেহ তখন পৃথিবী ভেষজ ও ম্লেচ্ছ মাটির পরিচয় থেকে তুলে অন্য আরেক পরিচয়ে শান দিতে দিতে যখন সুলিখিত হলো কুরআন, বাইবেল, বেদ ভোতা হয়ে গেল মানুষেরই সংবেদ!  

নিরানডারথাল


আরো কেউ আছে স্নায়ুর সীমানার ওপারে, ফিসফিসে কেউ! আগুনের ভঙ্গির মতো আকৃতিপ্রবণ। ঊর্ধ্বমুখী ঢেউ। আকুতি তার কাছে। সার্কিটে সার্কিটে গণসংযোগ দিতে দিতে হাতে তাতিয়ে ওঠা তাতাল: সেই কত আগে স্নায়ুর ওপারে গিয়েছিল নিরানডারথাল! তাদের সাথে দেখা হয় কথা হয় সিমেটিক বচনে প্রার্থনায় মাতাল আমরা মুসলিম ক’জনে।  

তৃতীয় রমণী


প্রণয় এক পুরনো অভ্যাস প্রাচীন অতি প্রাচীন ম্যামথ শিকারির দেহে শিকারের মূর্ছনার মতো দলবদ্ধ আর অতি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে আছে কিছু প্রজনন জিন আমাদের প্রণয় শুধু ফলিত অবভাস আমাদের বধূ শুয়ে আছে বহু-ব্যবহৃত ম্যামথের শীর্ণ রেখাটির মতো তাকে ঘিরে ঘিরে আমাদের ইন্দ্রজাল সুর, ছন্দ, মশলা, আসবাব, মুদ্রার ধূম্রজাল তিনি চূড়ান্ত নন? কণ্ঠে তার লাল, নীল আনন্দ চিৎকার! স্বাধীন অরণ্যে অন্য কেউ চূড়ান্ত শিকার? বধূ আমাদের অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি শুধু! প্রণয়ের কাছ থেকে বেছে নিতে পারি প্রণয়বোধ। এখানে মাংসের ক্রোধ নাই (কোনো এক প্রাচীন ব্যবস্থাপনা মাংস হয়ে আছে) যেতে পারি তার কাছে প্রণয়বোধ ছাড়া পুরুষেরা তাকে প্রণয়ী ডাকে? যে প্রেম অভিযোজনের নয় দেহের অনুষঙ্গ নয় চেতনার মতো নির্বাচিত, নিজের সেই নারী নারী নয় বধূ নয়, বন্ধু নয় নিরাকার বীজের? যেতে পারি তার কাছে সে আছে?  

তার ঠোঁটে


এই সমুদ্র নারীর ঠোঁটের মতো নরম, কম্পনপ্রবণ স্পর্শকাতরতায় সময়বিস্তৃত, বিস্তারবিস্মৃত আত্মমগ্ন, ভঙ্গুর। ফুলে থাকে কামের প্লবতায়। হঠাৎ সমুদ্রের ভিতরের নারী জেগে উঠলে নাবিকেরা জলশ্রীকে ঘৃণা করতে পারে না। তারা বরং পছন্দ করে নেয় যুঝে যাওয়া পৌরুষের মেধা। হাওয়ার স্তনে পরিয়ে দেয় ফোলানো পাল। ঢেউয়ের চুম্বনের দোলা সামলে নেয় বৈঠার আপত্তি ঠেলে। দূরত্বের উচ্চতা থেকে ঝড়েপাওয়া জাহাজের এইসব প্রাণান্ত ক্ষিপ্রতা অবলোকনহীন। চোখে পড়ে সমুদ্রের ত্বকে পড়ে থাকা কালো, নিরীহ একটি তিল। একটি তিল কী দুঃসাহস নিয়ে পড়ে থাকে নারীর ঠোঁটে!  

উপস্থিতি


আমার কোনো               বিচ্যুতি  নাই পতিত হই                    নক্ষত্রের পাশে তার আয়ু                      অন্য পৃথিবীর ঘাসে তখনো                         আর্দ্রতার ফল। আমিও                         প্রবল এপিঠ                          ওপিঠ মন্থর                          বাতাসে। বর্তমান                       ও অতীতও আমাকে বলছে              পতিত! নিচে                           অপসারণের প্রস্তুতি নিয়ে                  উদ্যত শ্রম বুকে তুলে                    ফুলে আছে ঝাড়ু ও                        ঝাড়ুদার। আলোক                       শলাকার বুকে                            কর্তব্যের গিঁট তুলে                      মেঘ-রোদ্দুরে আকাশও                      সঙ্গিনী তার। এই মুহূর্ত                     তবু পতনের নয়                  এই বিচ্যুতি উপস্থিতি                      এক অন্য                            কারো কাছে: লাব্বায়েক                     লাব্বায়েক। কোনো এক                   বৃন্ত আদ্যোপান্ত                   জানা নাই তিনি                            বিস্ময় তার                            প্রতিভার ঠোঁটে আমার                         গন্তব্য: যুক্ত হই                       মুক্ত হই পাতা হই                      ফুল হই ফল হই                        পর্যবসিত হই তার                            উদ্দেশ্য বাদিতার                      ঠোঁটে মৃত হই                        অন্য হই। পতিত হই                    নক্ষত্রের পাশে এখনো                        আমাকে কেউ                           ভালোবাসে। যুক্ত                            হই  

অনুপস্থিত প্রাণ


অনুপস্থিতি এত একলা, নিরালা, অমিল নিচু দিয়ে উড়ে গেল ছায়াপথের আলোকবর্ষজীবী ভুবনচিল! কোনো বৃক্ষ নেই এমন এক উদ্যানের পাশে জলরাশিহীন কোনো গহ্বর ভূগোলের তীরে অনুপস্থিতি নিজের পদচিহ্ন খোঁজে, বাঁ-দিকে আবার পেছন ফিরে। এক মিষ্টতা ত্বক ছিঁড়ে উঠে এল শ্বাসে! এখানে সেই আপেল গাছটি ছিল! কুণ্ডলিত শূন্যতার বিষে ভয়, সে দেহ ঢাকা ছিল না সেমিজে কোনো এক নারীর নামে চুম্বনের স্নেহ অনুপস্থিতি থামে আপেল বৃক্ষের সংরক্ষিত অপসারণের নিচে? এখানে সেই হাড়খানা ছিল! খোয়া গেছে মানচিত্রহীন পুরাণে। সে আছে, এখানেই। হেই প্রতিধ্বনি একা ফিরে আসে অথবা ফেরে না অনুপস্থিতি ঈশ্বর হয়ে ওঠে সুরহীন গানে।  

অবিশ্বাস


ঈশ্বরের কোঁচর ছিঁড়ে এই বিনির্মাণ সব ঘটমান সম্ভাবনা সব হয়ে ওঠার ভ্রূণ, সম্পৃক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে পরিবৃতির মেঝেতে আমি সব গুছিয়ে রাখতে চাই আমার সন্তান তার আয়ুর মধ্যে ঘুমুচ্ছে সে দেখুক বাবা-মার সম্পর্কটি গোছানো বিছানাটা টানটান, নরম তুলোর জোগান এসেছে বৃক্ষ আর বসন্তের কাছ থেকে মেঘ, শস্য, বাতাস, রৌদ্র, ঋতুর সম্পর্কগুলো গোছানো থাক তাকে নিয়ে হাঁটতে বেরুবো পথের বুক থেকে পণ্যের অসচেতন বর্জ্য তুলে অপসারণের বাক্সে রাখতে রাখতে তাকে বলব: নীহারিকা আর আমাদের সম্পর্কটি গুছিয়ে রাখলাম। যারা আমার সন্তানের জন্য অবগুণ্ঠন নির্মাণ করছে ফোঁড়ার মতো ফুলিয়ে তুলেছে প্রার্থনাগৃহের স্ফীতি তারা ঝুড়ির মধ্যে গুছিয়ে রাখছে পরকালের আয়ু আমার সন্তান বেড়ে উঠছে তার আয়ুর মধ্যে আমি বিশ্বাসের তাকে গুছিয়ে রাখব বিশ্বাস যুক্তির তাকে যুক্তি আমার সাধ্যের চেয়ে বৃহৎ যে ঐশ্বরিক বিশৃঙ্খলার পরিবৃতি তাকেও গুছিয়ে রাখব অবিশ্বাস ও অস্বীকৃতির তাকে।  

অনুষঙ্গে সিগারেট


তামাক জড়িয়ে রেখেছি চাঁদের আলো দিয়ে মোড়ক খুললেই চাঁদ ওঠার খসখস শব্দ তারপর আলো এখানে স্তব্ধতা ছাড়া ভালো কোনো সঙ্গীত নেই চাঁদ উঠবে আমার সময়ে পেরুলো সবে দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দ দূরে হলঘরে চেনা সম্পর্কগুলো গান করে, নাচে, হ্রেষা করে গায়ে দূরত্বের ধুলো, টেবিলে ঠেসে ফেলে তুরুপের তাস জীবন বাজিমাত! রক্তে তবু তানপুরার ক্রমউৎক্রান্তির তান আবহ ক্লান্তি বাড়ে উচুঁতে! আর নাই সূক্ষ্মতম সামাজিক উদ্বায়ী অবভাস? এই সব? জীবন ও শব? তারপর আলো? কী এক অস্পষ্টতা, শূন্যতা। আবার শুনলাম। ফিসফিসে এক নাম, গভীরতা বাড়ালো। গভীরে যাব নাকি দূরে? দ্বিধার আগুনে তখন দেয়াশলাইটি পুড়ে ওরা কেটেছে সমান বয়সী কেক পরিপাটি, কালো চকলেটলীন, সুগন্ধি, খ্রিস্টাব্দের স্বাদ! এখানে একা বাতাস ধোঁয়ার শরীর ভালোবাসে চাঁদের কাছে চলে গেছে আমার অর্ধেক কেন ধরি নি তার নতজানু হাত, সেদিন? জীবিকাই দায়ী? সমাজ পারে নি হতে কখনই এমন ঘনিষ্ঠ উদ্বায়ী  

স্টার স্ক্রু


বুকেতে নক্ষত্র খাঁজ!                           মিজাজে ঢাকাইয়া ঝাঁজ হালা তুই কত নাম্বার?                        আপসে ঢোক, ওরে বাম্পার ফাটাইলো কালার মন্দির                     হোন হালার পুত হুমন্দির কইলাম না আন থিরি ফোর                  নরমাল ডা, হালা কাম চোর আনলো স্টার ফ্যাশনের স্ক্রু                 তোর দাদার দাদির ক্রু ক্রু এই স্টারেই সব গণ্ডগোল                    বিদিশি দিয়া পুত তোল মেঘ জানি ফেরেস্তার ভ্রু                       অগুন্তি ছড়ানো স্টার স্ক্রু ডিবি বক্স টানা দিয়া                           আসমানের টানটান হিয়া হকিংস এক হুমন্দির পুত                    স্ক্রু খুইলা ফুরুত ফুরুত লাজলজ্জা বহুতই কম                       দেইখ্যা লয় খোদার শরম  

২ তিনি উলম্ব। মাংসপেশী থেকে সৃষ্ট শক্তি, হাতের স্ক্রু-ড্রাইভারের শানিত শীর্ষে স্থানান্তর করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন। ড্রাইভারের মুখ স্টার স্ক্রুর নক্ষত্র-খাঁজ থেকে পিছলে যাচ্ছে বারবার। ডিবি বাক্সের ঢাকনাটাকে মুক্ত করা যাচ্ছে না। প্রয়োজন ও অভিপ্সার মাঝখানে স্ক্রুটি এখন একটি মুক্ত সত্তা। তাকে সময়ে রূপান্তর করা যায়, প্রচেষ্টার প্রহর! অপ্রাপ্তি বলা যায় বিদ্যুৎবঞ্চনার সামাজিক অবভাস। সম্ভাবনাও বলা যায়, অস্তিত্বের এক আয়ন, আবেশ-আশা।

তিনি আনুভৌমিক। শ্রান্তির পর হ্যামকে বিশ্রাম নিচ্ছেন। এখন সন্ধ্যা। একটি নক্ষত্রের আকস্মিক দ্যুতি তাকে একটি হিম উত্তেজনায় জড় করল। একটা স্টার স্ক্রু, আকাশে! বিজ্ঞানীরা খুলে নিতে দেরি করছেন কেন?

 

পাহাড়


সমতল ছাড়িয়ে যাই টাটা বস গুরু বাই বাই বিদায়ের এ শিষ্টতা নাগরিক এ মিষ্টতা শেখালো ইংরাজরা? সাহেবরা শাসন করে সাহেবরা ভাষণ করে সাহেবরা ড্রাইভ করে মদও খায় প্যান্টি পরে ধুত্তোর তাদের আগে মদ টানে মৌবাগানে পাহাড়ি তন্ত্রী মে’রা কত দূর গুরু পাহাড়? জীব ফেলে টুরিস্ট জিপে দাবাচ্ছি এক্সিলেটর গাড়িটা খটরমটর বিযুক্তির শব্দ করে মানুষের বিশ্বাসেরই কাঠামো শুদ্ধ নড়ে? পৌঁছুব সকাল ন’টায় ঘড়িটার ঐ কলকব্জায় বিশ্বাসের ঐ সাজসজ্জায় গণিতেরা মন্ত্র পড়ে! কী জানি বিজ্ঞান করে যুক্তির বীজ পুঁতেটুতে দেখে অ্যাবসুলুট ট্রুথে জন্মেছে তান্ত্রিক ঝাড়! কত দূর গুরু পাহাড়? মানুষরা মাতাল হলে চড়ে সেই গাছের মাথায় সমতল মাতাল হয়ে চড়ল ঐ পাহাড়চূড়ায়! বাংলোটা ব্রিটিশ ধাঁচের অ্যাংলোটা ফিনিস কাচের রোদ্দুরে শরীর পুড়ায় মেয়েরা অভ্যর্থনার বাড়ালো বরণডালায় পাহাড়ি মদের গেলাস অপূর্ব! তুই কত চাস? হে পশ্চিম, তোমাদের গ্রাস শেষেও রয়ে গেছে টলটলে এইটুক পূর্ব অপূর্ব!  

জেনিস মাহমুন


আমার মুখ তো সূর্য—ঘটমান ক্রোধ, ক্রোধ পুড়ে মরে আত্ম-অলংকৃত আঁচে বিংশ শতাব্দী পেরিয়ে রোদ, রোদ রাত্রি তো আসবে না তোমাদের কাছে!  

নাসরিন মাহমুন


প্রেম এক সম্পন্নবোধ: প্রশ্নের ক্রোধ শেষে আলিঙ্গনের প্রতিরোধ নঞর্থের বিপরীতে। এই দেহ তখন পরমাস্ত্র শিষ দিতে দিতে টেনে আনে অন্যের প্রসঙ্গ দেখ তো তার ঐ অঙ্গ ছেলে না মেয়ে জীবন ভাগ হয়ে ধেয়ে চলে মিলন ও বিরোধে রক্ষণ ও ভক্ষণে সে তখন সমর্পণের কনে আমার গ্রহণের আয়োজন নাই প্রয়োজন আছে: টিকে থাকবার, লিখবার মিলিবার কার কাছে জীবিকার দাসত্ব পাই! আলিঙ্গনের প্রতিরোধ ঠেকায় নঞর্থের ঝড় অন্তরালে চলে মিলন ও বিরোধ উর্ধ্ব ও অধস্তন! অর্থকষ্টে কতটা স্বচ্ছল, কেমন প্রবল হতে পারে যুগলের জীবন? তার শেমিজের বন খুলে তিনি তখনি দিতেন মুদ্রাস্ফীতির মতো স্তন! এইসব জীবনের কথা আমাদের নীরবতা। এসে মেশে পড়শির হাসিকাশি বচশা। একা নই তারাও তো পাশাপাশি সম্পন্নতায় যেতে চায় মুদ্রায়, মাংসে, আত্মায় তারপর? ঘোলা আকাশের মতো থমকে দাড়ায় আমাদের সমগ্রতাবোধ। থাকে শুধু তার, আমার আলিঙ্গনের প্রতিরোধ!
জেনিস মাহমুন

জেনিস মাহমুন

জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৬৯; ঢাকা। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। পেশা : ব্যবসায়।...বিস্তারিত