লকডাউনের স্যুপ
খান না শুধু চিনি
◘
অফিস পাড়ার তিনি,
তিনবেলাতেই ঘুষ খেয়ে যান
খান না শুধু চিনি
তিনার নাকি সুগার লেভেল হাই
রুটিন করে মাস না যেতেই
বিলেত যাওয়া চাই
বিলেত যাবেন তিনি
এয়ার টিকিট, হোটেল-মোটেল
ফ্রি পেয়ে যান শুনি
অফিস পাড়ার তিনি
সুগার ছাড়াই ঘুষ খেয়ে যান
খান না শুধু চিনি
তিনার মিসেস অনেক অনেক চুজি
গয়না কিনেন দুবাই গিয়ে
তিনশ দোকান খুঁজি
অফিস পাড়ার তিনি
ঘুষ খেয়ে যান, দেশ খেয়ে যান
খান না শুধু চিনি
লকডাউনের স্যুপ
◘
গাছের বানর গলায় নিলো ইয়া বড্ড স্টেথোস্কোপ
ছাগলগুলা গাউন পরে ওষুধ বেচার পাতছে টোপ
বনের ভিতর নতুন বিমার, শিয়ালগুলো খুব চেঁচায়
হরিণগুলা ভয়ের চোটে বাঘের খাঁচায় মুখ লুকায়
হনুমানের বুদ্ধি মতোই অলি-গলি করল লক
ভেড়াগুলা সদলবলে কাঁপছে ভয়ে ঠক ঠক ঠক
এমন আজব অবস্থাতে রাজার চোখে নিদ্রা নাই
এলান দিল, বাঁচতে হলে ঘরের ভিতর থাকাই চাই
ঘরের ভেতর খালি পেটে নাচছে গরু-গাধার দল
নেকড়ে বলে, এই সুযোগে বন নিলামে তুলব চল
গুজব ভরা ভয়-বিমারেই বন নিলামে তুলল তাই
অভুক্ত সব বনের পশু বলছে আমরা বাঁচাতে চাই
একদিন খুব সকাল বেলা বনের রাজার মন খারাপ
লকডাউনের স্যুপ বানিয়ে বলল এসে রাজার বাপ
ছাগল-পাগল দিয়া যদি এই ভাবে তুই চালাস দেশ
কদিন পরে দেখবি তারা রাজ্যটাকেই করবে শেষ
সব'চে বাজে-'ট'
◘
টিটকারিতে—
টিপ্পনিতে—
টাল্টিপাল্টি লিখতে 'ট'
গবেষণায় দেখা গেছে—
বর্ণমালায় বাজে-'ট'
'ট'-এর ঠেলায় টাকাওয়ালা
চার্টার্ড প্লেনে দেশ ছাড়ে
'ট'-টাকে তাই দিন-দুপুরে
আমজনতা গাইল পাড়ে
টাট্টিখানা—
টাস্কিখানা—
ট্যাক্স লিখতে লাগছে 'ট'
গবেষণায় দেখা গেছে—
বর্ণমালায় বাজে-'ট'
ট্রাঙ্কভর্তি টাকা ছিল
মতির বাপের পর-দাদার
ট্যাক্স মিটাতে ফতুর হয়ে
টানছে গাড়ি দুই গাধার
সবাই এখন বুইঝ্যা গেছে নাটের গুরু-'ট'
গবেষণায় ক্লিয়ার হলো সব'চে বাজে-'ট'
গিলি গিলি মন্তর
◘
যন্তর মন্তর
হাওয়া হয়ে যায় কেউ কিছুদিন অন্তর
হাঁকডাক দৌড়ঝাঁপ
তাই বেশি দিবা না
ছারখার যাই হোক
কথা বেশি কবা না
মাথা ভরা ঘিলু তাই
বেশি হলে বেচে দে
চোখ যদি দেখে ফেলে
চোখটাই ফেলে দে
গিলি গিলি মন্তর
গুম হয় যায় কেউ কিছুদিন অন্তর
আক্কেল দাঁতটাকে
টেনেটুনে ফেলে দে
বেশিকিছু বুঝে গেলে
ড্রেনে তারে ফেলে দে
হিস পিশ মন্তর
খুন হয়ে যায় কেউ কিছুদিন অন্তর
যদি প্যাঁচ লেগে যায়
◘
যদি প্যাঁচ লেগে যায়
কাবিখায়
টাবিখায়
চান্স পেলে আম-আঁটি
প্যাঁচ মেরে সবি খায়
যদি প্যাঁচ লেগে যায়
কোষাগার
পাঠাগার
চোর-ধাড় প্যাঁচ মেরে
করে ফেলে ছারখার
যদি প্যাঁচ লেগে যায়
টিআরের
বিয়ারের
প্যাঁচ দিয়ে খেয়ে ফেলে
পায়াগুলো চেয়ারের
যদি প্যাঁচ লেগে যায়
নিলামের
বালামের
সবকিছু বেচে দেয়
প্যাঁচ দিয়ে কলমের
যদি প্যাঁচ লেগে যায়
কাঙালের
বাঙালের
প্যাঁচ মেরে খুন চোষে
চাষা জোলা রাখালের
যদি প্যাঁচ লেগে যায়
পতাকার
অধিকার
খুব করে প্যাঁচ মেরে
ভুলে যায় দেশ কার
দ্বন্দ্ব সমাজ
◘
আঁধার নাকি ছায়া?
শঙ্কা নাকি ভয়?
মইরা যাওয়ার আগেই যদি—
মইরা যাইতে হয়?
ভাতের নাকি ভুতের?
কথার নাকি ঘাতের?
কোন ফ্যাসাদের চিপায় পড়ে—
বারোটা বাজে জাতের?
ওষুধ নাকি ওঝা?
বিত্ত নাকি বোঝা?
কোন বিমারের খপ্পরে কও—
ফাইসা যাওয়া সোজা?
চোরাই নাকি লুটের?
গরম নাকি ঝুটের?
কোন খাবারে মিটবে জ্বালা—
ক্ষুধার্ত এই পেটের?
বন্দি নাকি স্বাধীন?
যোদ্ধা নাকি অধীন?
ঘরের ভেতর লুকিয়ে থেকে—
বাঁচবা বলো কদিন?
মোক্তার হোসেন
জন্ম ৬ এপ্রিল ১৯৮২, লক্ষ্মীপুর। স্নাতকোত্তর, মৎস্যবিদ্যা, ঢাকা কলেজ। পেশা :...
বিস্তারিত
জন্ম ৬ এপ্রিল ১৯৮২, লক্ষ্মীপুর। স্নাতকোত্তর, মৎস্যবিদ্যা, ঢাকা কলেজ। পেশা : চাকুরি। প্রকাশিত বই : কবিতা— একটি লাল ঘুড়ি এবং আমি [জেব্রাক্রসিং, ২০১৭ মহুয়া মাতাল হলে [বেহুলা বাংলা, ২০১৭ ছড়া— মগজবিহীন গাধার দল [তিউড়ি প্রকাশন, ২০১৭ ধুর শালা কস কী [অগ্রদূত অ্যান্ড কোং, ২০১৯ গল্প— আইসিইউ বেড নম্বর নাইন [বেহুলা বাংলা, ২০১৮ শিশুসাহিত্য— রোদবৃষ্টির মিষ্টি ছড়া (ছড়া) [টাপুর টুপুর, ২০১৮ ই-মেইল : hossain.mokthar@gmail.com (স্বল্প)