মলাটের ভেতর থেকে : নাচে জন্ম নাচে মৃত্যু

নাচে জন্ম নাচে মৃত্যু বইটির প্রকাশক 'রাবণ'। প্রচ্ছদ এঁকেছেন বাসুকি দাশগুপ্ত। বই থেকে কয়েকটি কবিতা পরস্পরের পাঠকদের জন্য...


১ কে অরূপ সৃষ্টিকর্তা, অপরূপ ধ্বংসকর্তা কে? কে রচিল আদিগ্রন্থ, অন্তিম বিধান? পূর্ণ চান্দ্রমাস যায়, সৌরবর্ষ যায় অখণ্ড সলিলে এক মীন জন্ম লয়... নক্ষত্রবীথির ফুল ঝরে পড়ে ব্রহ্মাণ্ডের ভোরে সে ফুলের রেণু অতি আলোকবর্ষ দূর হতে ..........  .......  ...ছড়িয়ে রয়েছে অন্ধকারে মীনযোনি পক্ষীযোনি পশু আর বৃক্ষযোনি মাঝে জন্ম লাগি মৃত্যু লাগি রেণুর কণিকা ভিক্ষা মাগে...  

২

প্রসূতির কান্না আর রুদ্ধশ্বাসে সহর্ষ হয়ে আছে ঘর। এয়োস্ত্রীরা হুলু দেয়, শঙ্খ বাজায়, পিলসুজে প্রদীপ আর গর্ভদ্বারে ধাত্রী শুধু নিরত নির্জনে। হে মধুর— ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে দেখে নাও, গর্ভগৃহ-মাঝ— জলোচ্ছ্বাস, অন্ধকার, বিদ্যুৎ ঝলকে শেষবার ........... ......... .........ছিন্নসূত্র ভবিতব্যখানি...  

৩

শেকড় চলে গেছে পৃথিবীর নরম কুসুমে, উপরে পাহাড় পাথরের অট্টহাসি পাহাড়ে পাহাড়ে ধ্বনিময় অতল স্পর্শেছে যে জন, সেই জলের রহস্যহাসি সাগরে সমুদ্রে ধ্বনিময় মহাশূন্য বিশেষণহীন এক মহাস্তব্ধ খেলে হেরি তার শূন্যপরিণাম, ................... ..যাপিতেছি অলীক জীবন...  

৪

ইহলোকে সূর্যালোক আড় হয়ে পড়েছে সকালে পিতা মাতা কামিনী-কাঞ্চন সে আড় আলোকে মোহময় মোহময় ফুটে ওঠে পদছাপ, বাগানের ফুল। পাহাড় ও অভিযাত্রীদল পেরিয়ে চলেছে পথ ....................পথপ্রান্তে আঁধার-দুয়ার... ঐপারে কারুকার্যময় কুয়াশায় একলা দাঁড়িয়ে স্তব্ধতার গম্বুজ মিনার কাঠের চূড়ায় তার আনমনে বসে আছে অসীম সকাল শীত ঋতু পেরিয়ে চলেছে ঐ মাতৃগর্ভহীন অভিযাত্রীদল  

৫

পথের দু’পাশে অজানা ফুলের ঘ্রাণ, সুধাময় ফল, অনাস্বাদিত পথের দু’পাশে খাড়া অন্ধকার, গভীর উৎসারহীন আলোর সম্ভ্রম ...এই সেই দুর্বোধ্যতা ... ........... ........সরু বাঁকা পথ শেষে প্রান্তর কিনার ..............     ........................           .........এসে গেছি... —তুমি কি রয়েছ কোথাও ?  

৬

একাকী পথিকে আরো বিজন হয়ছে এই পথ প্রখর বালুকা আর তপ্ত পাথরে বহুদূর নরকের আলো আরো রতিগন্ধময়... ......... ........ ........... ..এত দূর এসে যদি অতীত পৃথিবী ফের  তোমাকে জাগালো বলো তবে, বলো শৈবলিনী, কাকে তুমি বেসেছিলে ভালো !  

৭

প্রেতযোনি পেরিয়ে এসেছি কিছু আগে। এ মরণ ধূসরিত পাথুরে ঝর্নার জলে দেহ ধুয়ে বসেছি ধুলায়। সূর্য অস্ত গেছে কতদিন সৌরযুগ শেষ হয়ে গেছে? মহাকাশে ভাঙা চাঁদ ওঠে নি কোথাও। নৈঋতে অগ্নিতে প্রেতকান্না গুমরোয় ঘন মেঘে বায়ু হতে বাতাস কি বলে গেল কিছু? বলো পথ এইবার কোন দিকে যাবে...  

৮

এ মরণ স্বর্গসুখে শেষ হলো না গো প্রবিষ্ট হয়েছি আরো অগ্নিময় লৌহগর্ভ-মাঝে আরো তীব্র হলাহল উঠে আসে নীলকণ্ঠ বেয়ে ..........................সে যে কী বিষম রাগ ! নাভিকুণ্ড থেকে ওঠে গান প্রেতলোক স্তব্ধতার, এটুকুই সুরধ্বনি ..........................নির্জনে কানাড়া রাগ বাজে...
কৌশিক বাজারী

কৌশিক বাজারী

জন্ম ২৫শে শ্রাবণ, ১৯৭৪, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহর। শিক্ষা :...বিস্তারিত