নিজার ক্বব্বানি ও তার কবিতা

নিজার তৌফিক ক্বব্বানি [১৯২৩-১৯৯৮ একই সঙ্গে সিরিয়ার একজন কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি এবং প্রকাশক। তার কবিতায় খুব সরলভাবে প্রেম, ভালোবাসা, যৌনতা, নারীবাদ, ধর্ম এবং আরব জাতীয়তাবাদ উঠে আসে। বিংশ শতকের আরবী সাহিত্যে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। নিজার ক্বব্বানি’র বয়স যখন ১৫ তখন তার ২৫ বছরের বোন আত্মহত্যা করে। ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে না-পারাই এর কারণ। বোনের জানাজাতে দাঁড়িয়েই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, এ সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধনের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তাকে বিপ্লবী বলা হলে তিনি বলেন, ‘আরব বিশ্বে ভালোবাসা হলো কারাবন্দি’, আমি তাকে মুক্ত দেখতে চাই। আমি আমার কবিতা দিয়ে আরবের আত্মা, বোধ আর শরীরকে মুক্ত করতে চাই। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের সম্পর্কটি স্বাস্থ্যকর নয়। তার সময়ের অন্যতম প্রাজ্ঞ এবং গভীর নারীবাদী হিসাবে তাকে আখ্যায়িত করেন কেউ কেউ। ১৯৬১ সালে আরব-ইসরাইলের যুদ্ধ তাকে প্রভাবিত করে। প্রেম, ভালোবাসা, নারী বিষয়ক কবিতা থেকে সরে তিনি তীব্র রাজনীতি সচেতন কবিতা লেখা শুরু করেন।


প্রত্যেকবার আমি তোমাকে চুমু খাই ❑❑

প্রত্যেকবার আমি তোমাকে চুমু খাই দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আমি অনুভব করি আমি একটা তড়বড়ে প্রেমপত্র রাখছি লাল ডাকবাক্সে।


গ্রীষ্মকালে ❑❑

গ্রীষ্মকালে আমি নিজেকে বাড়িয়ে দেই সৈকতে আর তোমার কথা ভাবি আমি কি বলেছি সমুদ্রকে তোমার জন্যে আমি কী অনুভব করি, তাহলে সে সৈকত ছেড়ে যেত তার ঝিনুক আর মাছ আর সেও আমাকে অনুসরণ করত।


ভালোবাসার তুলনা ❑❑

যখন একজন মানুষ প্রেমে পড়ে তখন সে কী করে পুরনো শব্দগুলো ব্যবহার করবে? একজন নারীর কি উচিত প্রত্যাশা করা যে তার প্রেমিক শুয়ে আছে ব্যাকরণ আর ভাষাতত্ত্বে?

আমি কিছুই বলি নি আমার ভালোবাসার নারীকে কিন্তু জড়ো করেছিলাম ভালোবাসার সব বিশেষণকে একটা স্যুটকেসে এবং তারপর ভাষা থেকে উড়াল দিয়েছিলাম।


ওহ, আমার প্রেম ❑❑

ওহ, আমার প্রেম তুমি যদি আমার পাগলামির স্তরে পৌঁছতে তুমি হয়তো ছুড়ে ফেলতে তোমার সব অলংকার বেচে দিতে সব চুড়ি, আর ঘুমিয়ে পড়তে আমারই চোখে।


সমুদ্রের তলদেশ থেকে চিঠি ❑❑

যদি তুমি আমার বন্ধু হও... আমাকে সাহায্য করো... তোমাকে ছেড়ে যেতে অথবা যদি তুমি আমার প্রেমিকা হও... আমাকে সাহায্য করো... যাতে আমি তোমার আরোগ্য হতে পারি... যদি আমি জানতাম... যে সমুদ্র খুবই গভীর... আমি হয়তোবা সাঁতার দিতাম না... যদি আমি জানতাম... কিভাবে আমার সমাপ্তি হবে আমি হয়তো শুরুই করতাম না

আমি তোমাকে কামনা করি... তাই আমাকে শেখাও কামনা না-করতে শেখাও আমাকে... কী করে তোমার ভালোবাসার শেকড় গভীর থেকে কাটতে হবে শেখাও আমাকে... কিভাবে কান্না শুকাতে পারে চোখের মধ্যেই আর ভালোবাসা যেন পারে আত্মহত্যা করতে

তুমি যদি নবি হও এই জাদুটোনা থেকে আমাকে মুক্ত করো আমাকে উদ্ধার করো এই নাস্তিকতা থেকে... তোমার ভালোবাসা নাস্তিকতার মতো... তাই আমাকে শুদ্ধ করো এই নাস্তিকতা থেকে

যদি তুমি শক্তিশালী হও... আমাকে উদ্ধার করো এই সমুদ্র থেকে কেননা আমি জানি না কেমন করে সাঁতার কাটতে হয় নীল ঢেউ... তোমার চোখের আমাকে টানে... গভীরে নীল... নীল... কিছুই না কেবল নীল রং আর আমার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই ভালোবাসায়... আর কোনো নৌকাও নেই...

আমি যদি তোমার কাছে প্রিয় হই তাহলে আমার হাত ধরো কেননা আমি কামনায় পূর্ণ... আমার হাত থেকে মাথা পর্যন্ত

আমি পানির নিচে শ্বাস নিচ্ছি! আমি ডুবে যাচ্ছি... ডুবছি... ডুবছি...

মুম রহমান

মুম রহমান

জন্ম ২৭ মার্চ, ময়মনসিংহ। এমফিল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা লেখালেখি।...বিস্তারিত