মিতালি

সকাল— যেভাবেই আসুক না কেন ওরা ছিল তোমার কার্নিশ জুড়ে                         চড়ুইয়ের ঠাট্টা,                       জামার নীল রং— আর দুই-তিনটা বোতাম,                       উন্মাদ— তারা লাফিয়ে পড়েছিল টবে। অবাক হই নি— গাছেরা দাঁড়িয়ে দূরে, কেউ কিছু বললেই আজ শুনতে পায়                 আমাদের এই বাকবিতণ্ডা! কে তুমি? ভাবছি না এমন কিছু              যে তুমি নাই— সবকিছু থেকে দূরে আধমরা বাল্ব! গ্রামের দিকে তাকালে এখনও দেখি— মেয়েটি খেলছে আঙুলে সুতো বেঁধে রহস্যময় সে ছবি—               মাছের চোখের মতো উদাস আর মিষ্টি ভারি—                পয়মন্ত দিন যেন সে চলে গেলে আর ফিরবে না। অথচ বাতাসের গতিবেগ,                               যেভাবেই আসুক তারা অদ্ভুত মেয়েমানুষ— পাতার নিচে শুয়ে গাইছিল গান—                            পাখির বাণীতে লেখা আরও কত কত যে নাম—                   কে জানে! কী আছে এর পরিণাম। বসন্ত, আমি উসকো খুসকো দিন—                 ঝুলে থাকা রোদ—                 বাতাস, মৌমাছি কিন্তু এমন না যে, তুমি এর কিছুই না আমাকে লিখছ গোপন—                 আর প্রকাশ্যে                              দূরে— আসন্ন শীতের খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে। জ্বলে ওঠা যা কিছু,                 তা আমার নয়— তার চেয়েও সত্য এই গ্রাম— সত্য গৃহ, মায়ের সুখ চিরদিন—              গুনগুন গান। ক্লান্ত হলে পরিবেশ হাসির চেয়েও বেশি আরও বেশি নিজের মনে হয়—হৃদয়। ভাবি, কিভাবে পাঠাব এইসব কথা—                     চিত্র—কবিতা,                     সোনার গহনা আর তাকে                     কিভাবে বলব— আমাদের বিয়ে হোক                     খুব দ্রুতই, আমাদের বিয়ে হোক গায়ে— যে কোনো ঘরের ভেতর কুপির উৎসব। খড়ের বারান্দায় বসে থাকা অচেনা পাখি— তারা ঠোঁট দিয়ে চাঁদ খায়,                  ভীষণ আলো খুলে পড়া থোকা থোকা গানের শেষে সোনার চাবি— জানি, তুমি লুকাবেই— লুকাবে গোপন দুটি পাখির মিতালি।
ঈদসংখ্যা ২০১৯
সারাজাত সৌম

সারাজাত সৌম

জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকুরি। প্রকাশিত বই : একাই হাঁটছি পাগল...বিস্তারিত