পর্ব-৩৮
পর্ব-৩৯
বাইতুল মোকাররম থেকে মিনি রেকর্ডারটি কেনার পর আমি যখনই অবসর পেতাম, তাঁতিদের ইন্টারভিউগুলি মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করতাম। তাঁদের কথাবার্তা শোনার ফাঁকে ফাঁকে প্রয়োজনীয় যা-কিছু নোট নেবার তাও নিয়ে রাখতাম ডায়েরির পাতায়। যাতে লেখার সময় কোনো ডাটা খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যেতে না-হয়।
শাহবাগের আজিজ মার্কেটে তখন বই-দোকানের-ভিড়। বস্ত্র-ব্যবসায়ীরা তাদের বেনিয়াগিরি এখনকার মতো রমরমাভাবে শুরু করতে পারেন নাই। সে-সময়ে আজিজ মার্কেট মানেই আমার মতো অনেকের কাছেই নতুন-বইয়ের ভুরভুর-সৌরভ। আনকোরা সব বইয়ের-পাতার-ভাঁজে-ভাঁজে নতুন কিছু আবিষ্কারের হাতছানি। ফলত প্রতিমাসে আমাকে আজিজ মার্কেটে এক কি দুইবার ঢুঁ মারতে যেতেই হতো। আজিজে না গেলে আমার প্রয়োজনীয় বইপত্র সংগ্রহ করা বেশ ঝক্কির ছিল। আজিজে যেতে যেতেই মুক্তচিন্তা প্রকাশনের ঔনার শিহাব বাহাদুরের সাথে আমার পরিচয় হয়। শিহাব ভাইয়ের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার। আমি তখনও কম্পিউটারে কম্পোজ করার কাজটি তেমন ভালো করে আয়ত্ত করতে পারি নাই। বাসার একমাত্র পিসিটা থাকে কন্যাদের এখতিয়ারে। কন্যাদের সাথে দৌড়ঝাঁপ করে কম্পিউটারের দখল নেয়া থেকে আমি বিরতই থাকি। যদিও বাংলা একাডেমিতে তরুণ লেখক প্রকল্পের কোর্স করাকালীন সময়ে কম্পিউটার চালানোর প্রশিক্ষণ আমাদের সকলকেই দেয়া হয়েছিল। তবুও আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকি। আর যা কিছুই লিখি, লিখি কাগজ আর কলমে। লিখে শেষ করে গুচ্ছের টাকাপয়সা খরচ করে বাইরের কম্পিউটার থেকে কম্পোজ করিয়ে আনি।
সিসিফাসের মতো পাথর ঠেলে নেয়ার কাজ থেকে কোনোদিন আমার মুক্তি ঘটে নাই!
কিন্তু ওভাবে কাজ করাতে বড় বেশি খাটুনি খাটতে হতো। বেশিরভাগ কম্পোজিটর অর্ধ-শিক্ষিত বিধায় নিজেদের ‘মনের মাধুরী মিশিয়ে’ শব্দবাক্য বদলে দিয়ে আমার লেখার একেবারে চৌদ্দটা বাজিয়ে ছাড়ত। আমিও অসীম ধৈর্য নিয়ে ঘাড়-মাথা ব্যথা করে সেসব লেখার কারেকশন করে দিতাম। আর মনে মনে ভয়ানক বিরক্তি বোধ করতাম।
এসব অসুবিধার কথা মনিকে একদিন বলাতে মনিই আমাকে বলল, শিহাব ভাইকে দিও, তোমার লেখা কম্পোজ করে দিবে।
শিহাব ভাই যখন আমার একটা/ দুইটা গল্প কম্পোজ করে দিল, আমি সত্যিই বিস্মিত হলাম। ভুলভাল একেবারেই নাই। একবার প্রুফ কেটে দিলেই একেবারে নির্ভুল লেখা আমি পেয়ে যাই। শিহাব ভাই নিজেও একজন কবি-লেখক। তদুপরি তাঁদের নিজস্ব প্রকাশনা-সংস্থা এই মুক্তচিন্তা। আমি বুঝে গেলাম, শিহাব ভাই অত্যন্ত ভালো একজন কম্পোজিটর ও বানান বিষয়েও তিনি দক্ষ।
শিহাব ভাইয়ের মতন অত্যন্ত দক্ষ একজন কম্পোজিটর আমার পাশে না-থাকলে বয়ন লিখতে গিয়ে আমাকে কত যে নাকানিচুবানি খেতে হতো, আর চোখের-জল, নাকের-জল এক করতে হতো—সেকথা ভেবে আজও আমার কাঁপিয়ে জ্বর আসতে চায়। আমি বয়নে এন্তার আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করেছি, তাঁত-যন্ত্রের নানান খুঁটিনাটির নাম ব্যবহার করেছি। সেসব যদি কেউ তার নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে টাইপ করত, তাহলে বয়ন বই-আকারে প্রকাশ পেতে কত মাস আর কত বছর যে লেগে যেত কে জানে?
আমিবয়ন লিখছিলাম ধীরে-সুস্থে, রয়েসয়ে, এক-দুইটা পর্ব করে। এক কি দুই পর্ব লেখা শেষ হলে শিহাব ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছিলাম। শিহাব ভাই কম্পোজ করে দিলে আমি প্রুফ চেক করে তা ফাইনাল প্রুফের জন্য হার্ডকপি তৈরি করে রাখছিলাম। উদ্দেশ্য একজন ভালো প্রুফরিডারকে দিয়ে একবার দেখিয়ে নেব। শিহাব ভাই অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে আমার উপন্যাস কম্পোজ করে দিচ্ছিলেন। কোনো কোনো পর্ব উনাকে দিতে বিলম্ব হলে উনি আগ বাড়িয়ে জানতে চাইতেন—
পাপড়ি আপা, পরের পর্ব কই?
তবে আমি ঠিক যেমন চাইছিলাম, একেবারে মুক্তবিহঙ্গ হয়ে—সেরকম করে বয়ন লিখতে পারছিলাম না। সাংসারিক-জোয়াল আমার কাধে চেপে বসা ছিলই, ফলত দায়দায়িত্ব এড়িয়ে বা অন্যের ঘাড়ে ফেলে দিয়ে আমি কোনো লেখাই কোনোদিন লিখতে পারি নাই। এ জীবনে নানাবিধ সংকট এড়িয়ে খুব স্মুথলি কিছুই আমি লিখতে পারি নাই। বয়নও ১০/১২ পর্ব লেখার পর-পরই বিরতি ঘটে যেত। আমাকে ফের নতুন করে শুরু করতে হতো। সিসিফাসের মতো পাথর ঠেলে নেয়ার কাজ থেকে কোনোদিন আমার মুক্তি ঘটে নাই! আমি মুক্তির শত চেষ্টা করলেই বা কী?
জগদ্দল পাথর ঠেলে নেয়া ছাড়া আরেকটা বিষয় থেকেও আমার কোনোদিন উদ্ধার হয় নাই—সেটা সঙ্কোচের বিহ্বলতা! সঙ্কোচের বেড়ি দুই পায়ে শক্ত করে জড়িয়ে থাকলে কতদূরই-বা হাঁটা যায়? সঙ্কোচে গলা রুদ্ধ হয়ে থাকা সত্ত্বেও একদিন এক কবিবন্ধুকে অনুরোধ করলাম ‘বয়নের’ ফাইনাল প্রিন্টের প্রুফ দেখে দেয়ার জন্য। [কবিবন্ধুর নাম-পরিচয়-সাকিন সংগত কারণেই উহ্য রাখছি। নিশ্চয়ই অনুসন্ধানী কেউ একদিন তাঁর হদিস খুঁজে পাবেন।
আমি যে কায়দায় শিহাব ভাইকে বয়নের কম্পোজ করতে দিচ্ছিলাম, একই কায়দায় ফাইনাল প্রুফ দেখার কাজটাও করিয়ে নিতে চাচ্ছিলাম। অর্থাৎ যে পর্বগুলির কাটাছেঁড়া-এডিটিং কমপ্লিট হয়ে যাচ্ছিল সেসব পাঠিয়ে দিচ্ছিলাম ফাইনাল প্রুফের জন্য। কারণ আমার আর ভালো লাগছিল না এই উপন্যাসটি নিয়ে ঝুলে থাকতে। উপন্যাসটির মালমশলা জোগাড়যন্ত্র করার পর প্রায় ৮/১০ বছর অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু আমি উপন্যাসটা লিখতেও বসতে পারি নাই। এক্ষণে যাও লিখতে বসেছি, তাও নানান বাঁধায় লেখা এগোতেই পারছি না! আমার সত্যি আর ভালো লাগছিল না। আমি চাচ্ছিলাম আগামী বইমেলায় বইটি প্রকাশিত হোক।
এইটা কি কোনো উপন্যাস হইতেছে নাকি? কী সব আজেবাজে লেখা!
মাওলা ব্রাদার্সের ঔনার আহমেদ মাহমুদুল হকের সাথেও আমি এ বিষয়ে কথা বলে রেখেছিলাম।
খুব পরিশ্রম করে বয়নের চল্লিশ-পর্ব লেখা শেষ করে ফেললাম। কম্পোজের কাজও করে দিল শিহাব ভাই। চল্লিশ পর্ব লেখা হয়ে যাওয়ার পর আচানক সেই কবিবন্ধু একদিন আমাকে বলে বসল—
এইটা কী হইতেছে? এইটা কি কোনো উপন্যাস হইতেছে নাকি? কী সব আজেবাজে লেখা! এত বাজে লেখার প্রুফ দেখাও বিরক্তিকর! এইটা কোনো লেখাই হইতেছে না! সবই চেঞ্জ করতে হবে। নতুন করে লিখতে হবে।
আমি ফোনের রিসিভার হাতে নিয়ে টলে পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিলাম।
কোনোরকমে বলতে পারলাম—
এই উপন্যাসের একটা কমাও, একটা দাঁড়িও আমি চেঞ্জ করব না। যেখানে যা আছে তাই থাকবে।
ফোন রেখে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম আমার প্রুফরিডারের এই দুর্ব্যবহারের পেছনে রহস্য কী? আমি তো তাকে মোটা টাকা পারিশ্রমিক দিতেও প্রস্তুত আছি, কিন্তু সে হয়তো তা নেবে না। চক্ষুলজ্জার খাতিরেই হয়তো নেবে না। যদিও আমি জানি, যখন তখন যাকে তাকে ছোট করতে পারাটাকেই সেই কবিবন্ধু স্মার্টনেস হিসেবে গণ্য করে থাকে। জাহিরিপনা দিয়েই নিজের সমস্ত ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা সে হরহামেশাই চালায়। এতসব কিছু জানার-বোঝার পরও আমি কিন্তু তার কথা শুনে অত্যন্ত মুষড়ে পড়লাম। এমনকি বয়নের পরের পর্বগুলি লেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখলাম।
দিন কয়েক পরে আজিজ মার্কেটে গেলে শিহাব ভাই আমার মলিন চেহারা দেখে কিছু আন্দাজ করলেন কিনা কে জানে? তবে আমাকে কিছুই বুঝতে না-দিয়ে বললেন—
নতুন পর্ব আনছেন?
আমি মাথা নেড়ে না বললাম। শিহাব ভাই বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলেন—
কেন? লিখেন নাই?
আমি বললাম—
শিহাব ভাই, এ উপন্যাসটা আমি হয়তো শেষ করব না।
শিহাব ভাইয়ের উজ্জ্বল চেহারা মুহূর্তেই যেন নিভে গেল। নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন—
কেন? কেন এমন সিদ্ধান্ত, পাপড়ি আপা?
আমি বললাম—
আমার প্রুফরিডার বলছে এটা নাকি কিছুই হচ্ছে না। যা-তা কিছু একটা লিখছি আমি!
শিহাব ভাই শান্তভাবে বললেন—
আপনে বলছেন উনি নাকি প্রায় নির্ভুল প্রুফ দেখেন। আপনি তো আমাকে বলেন নাই তার নাম কী? বা কী তার পরিচয়? নামটা অন্তত বলেন, আমি তাহলে বুঝতে পারব সে কেমন পাঠক?
আমি নিরুত্তর রইলাম।
আমিও যেন ভাঙা মাস্তুলে পাল তুলে দিলাম। কিন্তু সমুখে তো অসীম-পাথার!
শিহাব ভাই তেমনি শান্ত-স্বরে বললেন—
আপনি লেখাটা শেষ করেন। শেষ করেন তো পাপড়ি আপা। ভালো না মন্দ তা পরে বিবেচনা করা যাবে।
আমি ভাঙামন নিয়ে পুনরায় লিখতে শুরু করলাম। নিজের সাথে সে এক ভয়ানক যুদ্ধ! শিহাব ভাইয়ের পরে যিনি বয়ন পড়ছে সে এই কবি—আমার দ্বিতীয় পাঠক। এই দ্বিতীয় পাঠকের এইরূপ অভিমত! তাহলে আমার আর লেখার দরকার কী? খামখাই জঞ্জাল বাড়িয়ে লাভ কী?
ঝড়ের আঘাতে ডুবে যাওয়া জাহাজ টেনে তুলে, পুনরায় সাজিয়ে-গুছিয়ে রসদে পূর্ণ করে বাণিজ্যযাত্রার কষ্ট নাবিক মাত্রেরই জানা। আমিও যেন ভাঙা মাস্তুলে পাল তুলে দিলাম। কিন্তু সমুখে তো অসীম-পাথার!
বয়ন লেখা শেষ হলো। আমি যেদিন পেনড্রাইভে করে পুরো ফাইল আনতে আজিজে গেলাম, শিহাব ভাই আমায় বলতে লাগলেন—
পাপড়ি আপা, এ উপন্যাসটা আপনি হয়তো আমাদের দেবেন না। দিলে আমরা ছেপে দিতাম।
আমি চুপ করে রইলাম।
শিহাব ভাই আবারও বলতে লাগলেন—
আমাদের নিজস্ব প্রকাশনা আছে। কত শত বইয়ের কম্পোজ আমি করি, কিন্তু এরকম ভালো পাণ্ডুলিপি আমি আর একটিও পাই নাই। তবে এটা যে একটা অত্যন্ত ভালো বই তা বুঝতে পাঠকের সময় লাগবে। ধরে নিন এক যুগ পরে সবাই বুঝতে পারবে আপনি কী লিখেছেন?
আমার চোখ অশ্রুজলে ভরে উঠতে লাগল। আমি মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম।
আমার তো হাত টানাটানির কোনো শেষ নাই। তখনও তেমন টাকাকড়ি আমার হাতে নাই। আমি অত্যন্ত লজ্জার সাথে শিহাব ভাইয়ের পকেটে পাঁচশত টাকার পাঁচটা নোট গুঁজে দিলাম।
শিহাব ভাই বিব্রত ভঙ্গিতে বলতে লাগলেন—
ওহো, কম্পোজের টাকা দিচ্ছেন, পাপড়ি আপা? কেন দিচ্ছেন? একজন শিল্পীকে আমি ছবি আঁকার জন্য রঙতুলি এগিয়ে দিয়েছি, সেজন্য টাকা দিতে হবে? রঙতুলির দামটা না হয় নাই দিলেন।
আমি শিহাব ভাইয়ের দুই হাত ধরে আর কোনো কথাই বলতে পারলাম না। এত সামান্য কটি টাকা দেয়ার লজ্জায় মাথা নিচু করে আজিজ মার্কেট থেকে বেরিয়ে এলাম।
ফের মোবারক ভাই, কবি সাজ্জাদ আরেফিন! মোবারক ভাইয়ের সাথে চলে গেলাম শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীর বাসায়। বয়নের সিনপসিস দিয়ে এলাম। এই উপন্যাসের প্রচ্ছদ কাইয়ূম ভাই ছাড়া আর কেউই করতে পারবে না। আর আমিও অন্য কারোর প্রচ্ছদই নেব না।
এদিকে ফাইনাল প্রুফ কারেকশন হয়ে আমার হাতে কিছুতেই আর আসে না। সেই কবি-প্রুফরিডারের নানান ধুনফুন। বিস্তর তালবাহানা! আজ দিব, আজ ভালো লাগছে না ইত্যাদি বাহানায় আমি নাস্তানাবুদ হতে থাকলাম।
আমার বারংবার সেই গল্পটা মনে পড়তে লাগল—বালকের জন্য যা খেলা, ভেকের জন্য তা নিশ্চিন্ত মরণ! কিন্তু আমি গল্প লিখলেই কী বা আমার শত গল্প স্মরণে এলেই কী? সেই কবি আমার মর্মযাতনার কিছুই অনুভব করল না!
সে পুরো শীতের সিজন ব্যাডমিন্টন খেলে, কবিতা লিখে, নিজের কাজবাজ করে, সময়ই করতে পারল না প্রুফ দেখে দেয়ার।
আমি বুঝতে পারছিলাম আমার সারা মুখে রক্ত জমে যাচ্ছে।
আমার লাগাতার তাগাদায় অবশেষে জানুয়ারির পনেরো তারিখে বয়নের ফাইনাল প্রুফের সিডি কুরিয়ারে হাতে পেলাম। পেয়েই রুদ্ধশ্বাসে ছুটলাম বাংলাবাজারে। এইবার আরেক সিংহ কেশর ফুলিয়ে বসে আছেন—আহমেদ মাহমুদুল হক। একটা উপন্যাস তো ‘উত্তরণ’ থেকে প্রকাশ করেছেন। এটার ভাগ্যে যে কী আছে কে জানে?
যথারীতি গুরুগম্ভীর মাহমুদ ভাই আমাকে বিব্রত করে দিয়ে বলতে লাগলেন—
এই বই করতে তো অনেক খরচ। এই বই করে আমার লাভ কী? কী দিবেন আপনি আমায়? বলেন?
আমি ভয়ে ভয়ে কোনোমতে বললাম—
কী আর দিব মাহমুদ ভাই? কাইয়ুম চৌধুরীর একটা প্রচ্ছদ করিয়ে দিতে পারি।
মাহমুদ ভাই আমার কথা শেষ না হতেই বললেন—
সে তো আমরাও পারি। আমার প্রায় বইয়ের প্রচ্ছদই উনিই করেন।
বলেই বইগুলির নাম বলতে লাগলেন।
আমি আরও বিব্রত হতে হতে একেবারে চুপসে গেলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার সারা মুখে রক্ত জমে যাচ্ছে। কিন্তু বিব্রত হলে পরিবর্তে কী করতে হয় আমি তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না!
মাহমুদ ভাই তেমনি দৃঢ় গলায় বললেন—
যান, বইটার প্রচার দিয়েন। বই তো বিক্রি হতে হবে নাকি?
আর এত পরে পাণ্ডুলিপি দিছেন, আপনার বই আসতে আসতে ফেব্রুয়ারির ২১ কিন্তু পার হয়ে যাবে।
এবং সত্যিই বই এল ২২ ফেব্রুয়ারি। একেবারেই প্রচার-বিমুখ আমি—তা সত্ত্বেও বাংলা একাডেমির নজরুলমঞ্চে মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন করে দিল মাওলা ব্রাদার্স। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সাথে এই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন কথাসাহিত্যিক আবু বকর সিদ্দিকী, কবি শামীম রেজাসহ আর কে কে জানি। এতদিনে অন্যদের নাম বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গিয়েছে! যারা ছিলেন তারা নিশ্চয়ই ক্ষমা করবেন আমাকে।