সাকিন ও সাং
আমরা—দুনিয়ার সমুদ্র-নদী, শিখর ভেঙে পড়া পাহাড় পেরিয়ে হয়ে উঠি একে অপরের ভাই—
আমরা—মৃত্যুর শিলীভূত কণ্ঠস্বরে গান গাই চক্রাবর্তিত কাদা ও মাটির—আমাদের অঙ্কুরোদ্গত বীজ, যারা হাওয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাড়িয়ে এনেছিল মৃদ্গত পশুদের—
অথচ, ঘাসের সবুজ পুরাকাল থেকে আমাদেরকে পাঠানো হলো ডিটেনশনক্যাম্পে, পাথরের শস্যের ভেতর সমস্ত নৈঃশব্দ্য শিরশির করে বেয়ে গেল মৃত্যু ছড়াতে ছড়াতে—
আমরা—একা আর পুড়ে যাওয়া গমের খেতের মতো এলোমেলো—
আমরা—অবমানুষ আর মৃত্যুর স্তব্ধতার মতো শিলীভূত—
রাষ্ট্রসঙ্ঘ আর তাদের উদ্ধত নীরবতা আমাদেরকে খুন করে প্রতিদিন—এমনকি আমাদের পিতামহের ছবি ঝুলানোর জন্যও নাই একটা আস্ত দেয়াল—
আমরা—ফিলিস্তিনি, ইয়েমেনি, কাশ্মিরি, বালুচ, সিরিয়ান, উইঘুর, রোহিঙ্গা, কুর্দি, ইয়াজিদি, বাঙালি, পাহাড়ি—কোথাও নাশপাতি-রঙের সন্ধ্যা অথবা আত্মা ফুলের ভোর সাজিয়ে রাখে নি একদা ঘরে ফেরার পতঝর নৈঃসঙ্গ্য—
তোমরা—আগুন দিয়েছ স্পন্দমান আমাদের অরণ্যের ক্লান্তিতে
তোমরা—গুঁড়িয়ে দিয়েছ নারঙ্গী ফুলের হাওয়া
তোমরা—স্রোতস্বিনীতে মিশিয়ে দিয়েছ জ্বালানি যেন মাছের চোখের মধ্যে দাউদাউ পুড়ে যায় শস্যের নিদ্রিত খেত
রাষ্ট্র—শয়তানের হাতে আঁকা রিফিউজির মানচিত্র
প্যালেস্টাইন, প্যালেস্টাইন
অলিভের ফুলে উড়তেছে ঘ্রাণ
নিক্রপলিস ধুধু বেশুমার
প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন
পুরানা কেবলা হে আমার—
তোমার পাথরে বাতাসের ছায়া
জলপাইবনে নামে আবাবিল
এম্পোরিয়ামে কারা গান গায়
ওড়ে সমুদ্রে মৃত গাঙচিল—
যেন সে তিলের মাঠ ভরা ফুল
হাওয়ায় হাওয়ায় কাঁপে পাপড়িরা
তোমার নারীরা জন্ম দিয়েছে
আপেলের বনে শিশিরের হীরা—
যারা নিয়ে গেছে রুটির গন্ধ
লেমন গাছের মায়া বহুবার
প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন
পুরানা কেবলা হে আমার—
প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন
মাজলে বোনের মতো মায়াময়
তোমার কান্না আমাদের চোখে
খালি হোসেনের কারবালা হয়—
চারদিকে শুধু ডিমেনশিয়ায়
হিজলের ফুল ঝরে বারবার
প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন
পুরানা কেবলা হে আমার—
আল-কুদস্
অলিভের বনে ওড়ে সন্তাপ
কুদসের অধিকার
রক্তের নিচে গড়াচ্ছে কেউ
অজস্র সালফার—
ভীষণ ইহুদি যাও অবিরহে
খঞ্জর-লীলাভূত
পোড়ে দুপুরের জামরুলবন
কতদূর অশ্রুত—
কারা ওই পারে চাটছে খনিজ
ইয়াজুজ মা'জুজ—?
মেঘে বিদ্যুৎ সাঁতরে বেড়ায়
তাক করা কার্তুজ—
এখানে মরণ অলিভপাতায়
ভরা স্বেদ-জোছনা
ছায়াপথ ধরে কাঁপে তারাধূলি:
আস্-মাউল হুসনা—