পরস্পরের চোখে ১০ বই

করোনাকালের নানা বিপর্যয়ের পর এবার জমে উঠেছে বিলম্বিত বইমেলা। বিচিত্র ক্যাটাগরির বই ইতিমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে। সেসব বই থেকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পরস্পর। মেলার শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের জন্য লেখাটি তৈরি করেছেন তরুণ লেখক আদম ফকির।

----------------------------

সত্যিকার অর্থে এটা খুবই কঠিন কাজ, মেলা শেষ হবার আগেই মেলায় আসা বইগুলি নিয়ে আলোচনা। এর জন্য আমাকে নির্ভর করতে হয়েছে বিভিন্ন জনের মতামত, আড্ডা ও তর্কের ওপর। যাচাই করতে হয়েছে কিছু বই চটজলদি পড়ে নিয়ে। কিছু বইয়ের পাণ্ডুলিপি অবশ্য মেলার আগেই পড়বার সুযোগ ঘটেছে। কাজেই আমার এ আলোচনা কোনোভাবেই বাছাইকৃত সেরা দশ বই নয়। শুধু এইটুকু বলতে পারি, গুরুত্বপূর্ণ দশটি বই সম্পর্কে পাঠক-ক্রেতাদের খানিকটা অবহিত করা। এবার ভণিতা ছেড়ে মূল আলোচনায় ঢোকা যাক।

Political Parties in India ॥ Abdur Razzaq

বাংলাদেশের সমাজ-রাষ্ট্র-দর্শনচিন্তায় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক এক কিংবদন্তি। একটিও বাংলা বাক্য না লিখে শ্রীচৈতন্য যেমন বাংলাসাহিত্যের জাগরণের আধার, কোনো টেক্সট ছাড়াই বাঙালি মুসলমানের সমাজচিন্তায় আবদুর রাজ্জাকও তাই। দীর্ঘ ৭২ বছর পর প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একমাত্র বই Political Parties in India। যেটি তাঁর পিএইচডি গবেষণার অভিসন্দর্ভ। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কির তত্ত্বাবধানে রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। কিন্তু লাস্কির মৃত্যুতে তিনি গবেষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেননি। বই লেখা ও প্রকাশনায় তিনি এতটাই অনুৎসাহী ছিলেন যে এটি আর প্রকাশিত হয় নি।

আবদুর রাজ্জাকের মত, ভারতে আসলে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এ বইয়ে তিনি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, ভারতে রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো দল হতে পারে নি। ব্রিটিশ শাসনের এককেন্দ্রিকতা, ভারতে মধ্যবিত্তের উত্থান, স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্রমিক-কৃষকের ভূমিকা, ধর্ম সংস্কার এবং সাহিত্যের প্রভাব, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং ধর্মকেন্দ্রিক দেশভাগ—এসব নিয়ে গভীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। বইটি প্রকাশ করেছে ‘ইউপিএল’।

পুরানো সেই দিনের কথা ॥ আকবর আলি খান

আকবর আলি খানের আত্মজীবনীগ্রন্থ পুরানো সেই দিনের কথা একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের জীবনকাহিনি। গ্রামের এক সাধারণ কল্পনাবিলাসী, অন্তমু‌র্খী, মুখচোরা বালকের প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরোহণ, টালমাটাল মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেওয়ার সংগ্রাম, ব্যর্থতার বিরাট জার্নি এ বই। একজন দক্ষ প্রশাসক ও একইসাথে অর্থনীতিবিদ ও লেখক-গবেষকের যাপিতজীবনের আখ্যান এ বইটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

আত্মজীবনী হলেও প্রতি ঘটনার তথ্য ও দিনক্ষণের হিসাব নির্ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। এ জন্য রচনার পাশাপাশি শ্রমসাধ্য গবেষণা, যাচাই ও সমন্বয়ের কাজটিও করেছেন তিনি। এদিক থেকে এটি একটি অনন্য জীবনীগ্রন্থ। এ বই সম্পর্কে আকবর আলির বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন,  ‘আমার মনে হয় আমি অকপটে যা বলার, তা বলেছি। তবুও লোকের মনে প্রশ্ন হতে পারে কতটা আড়াল করেছি। কেউ বলবে, আমি আত্মপ্রচারের জন্য কিছু বলেছি। এটাই আত্মজীবনীর বড় সমস্যা। আত্মজীবনী লিখলে লোকে সন্দেহ করে—মনে মনে বলে বোধহয় আত্মপ্রচারের জন্য লিখেছে। এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আত্মজীবনীতে কিছুটা হিপোক্রেসিও থাকে। আমি তা করিনি।’ বইটি প্রকাশ করেছে ‘প্রথমা’।

ভাষার উপনিবেশ : বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস ॥ ফয়েজ আলম

বাংলা ভাষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমাজে যেসব ডিসকোর্স চালু আছে বা ছিল—যেমন বাংলা ভাষার উৎপত্তি কী, বাংলা ভাষার ওপর প্রভাব কার, বাংলা ভাষা সংস্কৃতের দুহিতা ইত্যাদি—এর বিপরীতে উত্তর-উপরিবেশি তাত্ত্বিক ফয়েজ আলম ভাষার উপনিবেশ : বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস বইয়ে বাংলা ভাষার উৎপত্তি, স্বকীয়তা ও বিকাশের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। ভাষার উপনিবেশ : বাংলা ভাষার রূপান্তরের ইতিহাস বইটি বাংলা ভাষার মুক্তির নয়া ইশতেহার। 

এ বইয়ে তিনি তিনি দেখিয়েছেন, বাংলা ভাষার মূল স্রোত আসলে শ্রুতিসাহিত্য। উপনিবেশের ছত্রছায়ায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা না-জানা সংস্কৃত পণ্ডিতদের হাতে সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুশাসনে যে বাংলা ভাষা তৈরি হয়, তা বাংলার নিজের ভাব ও ভাষার অনুগামী নয়। উপনিবেশের আগে যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা ছিল, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ তার প্রায় বিপরীত একটি ভাষা তৈরি করে। বাংলা কথ্য মানভাষা ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে ফয়েজ আলম সংস্কৃতাশ্রয়ী বাংলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বইটি প্রকাশ করেছে ‘সংবেদ’।

সাংস্কৃতিক রাজনীতি ও বাংলাদেশ ॥ মোহাম্মদ আজম

কুঠার হেনে দুই ফালা কাঠের মতো চিরে যাওয়া আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এক গভীর দুর্দশায় নিমজ্জিত করেছে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজকে। দ্বিধা-বিভক্ত এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি আসলে সাংস্কৃতিক রাজনীতির দুই প্রবল ভাবের প্রকাশ। মোহাম্মদ আজমের সাংস্কৃতিক রাজনীতি ও বাংলাদেশ বইয়ে বাংলাদেশের সেই বিভাজনের সাংস্কৃতিক রাজনীতির ঘোপ, ঘুপচি, অলিন্দ ও সিংহদুয়ারের বিশ্লেষণ হাজির হয়েছে। উনিশ শতক থেকে শুরু করে বর্তমান অবধি প্রায় দুইশ বছরের সাংস্কৃতিক প্রবণতাসমূহ পর্যালোচনা করে মোহাম্মদ আজম দেখিয়েছেন, এই বিভাজনের আদৌ কোনো শক্ত বুনিয়াদ নেই। খামাখা টিকে থাকা এই সাংস্কৃতিক রাজনীতির বাতাবরণ ভেঙে বাংলাদেশের কাঠামোগত উন্নতির প্রস্তাব করেছেন তিনি।

বইয়ের প্রথম ভাগে দুইশ বছরের সংস্কৃতির রাজনৈতিক পাঠের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে স্থান পেয়েছে সাহিত্যের টেক্সট রিডিং। তৃতীয় ভাগে হাজির করা হয়েছে সংস্কৃতি ও রাজনীতির মধ্যভাগের কয়েক নমুনা। চেতনে-অচেতনে সাংস্কৃতিক রাজনীতি কীভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাষ্ট্র তথা আমাদের সমগ্রকে প্রভাবিত, নিয়ন্ত্রণ ও রূপায়িত করেছে তারই উদ্ঘাটন এই বই। বইটি প্রকাশ করেছে ‘সংহতি’।

সংবাদপ্রণালীর ব্যাকরণ : শ্রেণীর পুনর্গঠন, মতাদর্শ ও রাষ্ট্র
মানস চৌধুরী

মানস চৌধুরীর রচনার প্রসাদগুণ যেমন মোহিতকর, তেমনি তাঁর আলাদা চিন্তা ও দৃষ্টিপদ্ধতি পাঠককে উপস্থিত করে চলিতসীমার বাইরে, নয়া সেন্সিবিলিটির মুক্ত দুনিয়ায়। এবারের বইমৌসুমে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর পর্যালোচনাগ্রন্থ সংবাদপ্রণালীর ব্যাকরণ : শ্রেণীর পুনর্গঠন, মতাদর্শ ও রাষ্ট্র। অতি-সম্প্রতির নিমোর্হ পর্যালোচনার এ বইটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। 

এই বইয়ে উঠে এসেছে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির নানা দিক। বিশ্লেষণ করা হয়েছে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উত্থান-তিরোধান, বাংলাদেশের সামরিককাল, নব্বইয়ের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, ঢাকার সিভিল সমাজের উত্থান, বুদ্ধিজীবী আখ্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন, সংবাদ পরিবেশন প্রণালীর পাশাপাশি সাহিত্যিক সংশ্লেষও বর্ণিত হয়েছে এই বইয়ে। যার মধ্য দিয়ে তিনি সামাজিক জীবনের সুদূর অভিযাত্রার পথ রচনা করেছেন। বইটি প্রকাশ করেছে ‘দুয়েন্দে পাবলিকেশন্স’।

দুঃস্বপ্নের মধ্যপর্ব ॥ মাসুদ খান

এবার মেলায় প্রকাশিত কবিতার বইগুলোর মধ্যে মাসুদ খানের দুঃস্বপ্নের মধ্যপর্ব অন্যতম। বাংলা কবিতায় নতুন ভাব ও ভাষা নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ কবি মাসুদ খান তাঁর দুঃস্বপ্নের মধ্যপর্ব-তেও হাজির হয়েছেন নয়া মুন্সিয়ানায়। এ বইয়ের প্রতি কবিতায় মাসুদ খান পাঠককে পৌঁছে দেন একইসূত্রে প্রযুক্তি-পীড়িত ও প্রযুক্তি-পুলকিত এক অপার সত্তায়। 

পাখিতীর্থ দিন-এর পর নদীকুলে করি বাস, সেখান থেকে এই ধীর কমলাপ্রবণ সন্ধ্যায় বা ঊর্মিকুমার ঘাটে, তারপর দুঃস্বপ্নের মধ্যপর্ব বাংলা কবিতার পাঠকের জন্য এক রোমাঞ্চকর কাব্যযাত্রা। নদীশাসন পলিবহন বিষম অনুপাতে তিনি একের পর এক উন্মোচন করে চলেন কাব্যের নতুন নতুন দরজা। হারানো নভোযানে ছুটন্ত মাসুদ খানের পায়ে লেগে থাকে কাওয়াখোলা গ্রামের পিছলা-পাগারের সদ্য কাদা। প্রযুক্তি-শাসিত আসমান আর পৃথিবীর আদিতম ধানখেত যূথভাবে তাঁর কবিতায় গড়ে তোলে অধিবিদ্যার আবহভুবন। বইটি প্রকাশ করেছে ‘চৈতন্য’ প্রকাশন।

মুসলমানের ছেলে ॥ হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েতের মুসলমানের ছেলে কবিতার বইটি প্রকাশ করেছে ‘ঐতিহ্য’। আনোখা নদী, এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে, মাধুডাঙাতীরে থেকেই তাঁর নতুন কাব্যভাষার আওয়াজ স্পষ্ট। মুসলমানের ছেলে-তে এসে বাংলা কবিতার নিজের সেই ভাব ও ভাষার এক তুরীয় দশায় উপনীত হয়েছেন হাসান রোবায়েত। 

এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে বাংলা কবিতার ঔপনিবেশিক যাত্রার দাফন ঘটেছে হাসান রোবায়েতের মুসলমানের ছেলে কাব্যগ্রন্থে। প্রসঙ্গত স্মরণ করা যেতে পারে গত মেলায় প্রকাশিত আলমগীর নিষাদের মোকসেদুল বাংলা বইটির কথা। এই নামায়নও তাৎপর্যের দিক থেকে এক নতুন রামায়ণ। বাংলা কবিতার সেই নতুন প্যারাডাইমে মুসলমানের ছেলে এক উজ্জ্বল সংযোজন। বাঙালি মুসলমান সমাজের নিজস্ব যাপন, ভাব, মিথ, শব্দ, উপমার ব্যবহারে বইটি বিরাট বাঁকবদল, একই সঙ্গে বাঙাল জীবনের গভীরে প্রবেশের প্রস্তাবনা।

আমেরিকান বাঙালি মন : আহমাদ মাযহার

স্বাধীন রাষ্ট্রের বয়স মাত্র ৫০ হলেও বাঙালির হিজরতের ইতিহাস প্রাচীন। এখন পৃথিবীর প্রতি অঞ্চলেই বসতি আছে বাঙালির। এর মধ্যে ইউরোপ-আমেরিকায় বাঙালির স্বপ্নযাত্রা ও উপনিবাস বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এ বছর মেলায় প্রকাশিত হয়েছে আহমাদ মাযহারের আমেরিকান বাঙালি মন। বইটিতে আমেরিকায় বাঙালি সমাজের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, টিকে থাকার সংগ্রাম, জীবনধারা ও মনোজগৎকে দেখা হয়েছে ভেতর থেকে। 

অভিবাসী বাঙালিদের সাংস্কৃতিক মানসভুবন এই বইয়ের মূল উপজীব্য। সম্পূর্ণ আলাদা সংস্কৃতি, প্রাকৃতিকতা ও রাষ্ট্রিক পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালির জীবনযাপনকে লেখক বলেছেন ‘দূর স্বদেশ’। এই দূর স্বদেশে নিবিড় বসবাসের অভিজ্ঞতার সূত্রে লেখকের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে তাদের সাংস্কৃতিক নাড়াচাড়া, টানাপড়েন। সেই সঙ্গে তারা যে সাংস্কৃতিক তৎপরতায় সেখানে সক্রিয় তা কতটুকু স্পেস তৈরি করছে তার সুলুক সন্ধান। ভিন্ন সংস্কৃতিতে অভিবাসী বাঙালির ‘লোকাল’ হতে না পারার একাকিত্বের চিত্রও পাওয়া যাবে বইটিতে। বইটি প্রকাশ করেছে ‌‘অনন্যা’ প্রকাশনী।

আড়িয়াল খাঁ ॥ মাসরুর আরেফিন

বাংলা কথাসাহিত্যে মাসরুর আরেফিনের হাজিরা ঘটেছে নতুনধারার কথাকার হিসেবে। আগস্ট আবছায়া বা আন্ডারগ্রাউন্ড-এর ভুবনগ্রামের ভাষাশৈলী থেকে তাঁর নতুন উপন্যাস আড়িয়াল খাঁ-তে এসে তিনি টার্ন নিয়েছেন, দেশগ্রামের অতিবাস্তবতার নতুন কলোকোয়ালে। বাস্তবের পরাবাস্তবতার নয়া শৈলী আড়িয়াল খাঁ-কে আসীন করেছে বিশিষ্ট উচ্চতায়।

আশির দশকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের পরিবর্তন সূচনার উৎসারণ থেকে উঠে আসা আড়িয়াল খাঁ এক মহাকাব্যিক আখ্যান। গ্রাম, শৈশব, পীড়ন, অবিশ্বাস, ভয়ের এক আদিভৌতিক বিস্ময় এ উপন্যাস। বইটি প্রকাশ করেছে ‘কথাপ্রকাশ’।

কথাপুষ্প: প্রজ্ঞাবানদের বলা গল্প ॥ রায়হান রাইন

কবি ও কথাকার রায়হান রাইনের কথাপুষ্প: প্রজ্ঞাবানদের বলা গল্প বইটি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার রহস্যময় জগতের দ্বার উন্মোচন করেছে পাঠকের সামনে। ছোট ছোট গল্পের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গভীর প্রজ্ঞায় দ্রবীভূত গল্পগ্রন্থটি এবারের মেলার গুরুত্বপূর্ণ বই। জেনধারা গল্পের সাথে আমাদের অল্পবিস্তর পরিচয় আছে। বাংলার দর্শন, ভাব ও ভাষা বিষয়ের গবেষক ও পণ্ডিত রায়হান রাইন তাঁর মৌলিক রচনাশৈলীর আঁচড়ে এমতো গল্পগুলোকে উপস্থাপন করেছেন অনির্বচনীয় পুষ্পকথায়। সূক্ষ্ম রসবোধ ও টুইস্টে ভরা জীবন-শিক্ষা, নীতিবোধ ও উপদেশাশ্রিত এ বইটিকে একটি দর্শনগ্রন্থও বলতে হবে।

২১১টি পুরানো নাতিদীর্ঘ গল্প ও গল্পের পুনর্বয়ান আছে বইটিতে। লেখকের কথায়, ‘যেগুলো দর্শনের জটিল বিষয়কে সহজভাবে বুঝিয়ে দেয়। শেষ অব্দি গল্পগুলোর একটা সাধারণ বিষয় পাওয়া গেল, যার নাম ব্যবহারিক প্রজ্ঞা। এই প্রজ্ঞা হয়তো জ্ঞানেরই এক রহস্যময় আত্মীয়া। কারণ, প্রতিটি গল্পের তির যে জায়গাটাকে বিদ্ধ করে, একটু থেমে সেই বিন্দুটিকে নিয়ে ভাবুন, দেখবেন আপনি ক্রমশ গভীর কোনো চিন্তার দিকে এগোচ্ছেন, যা কোনো একটা পরিস্থিতি থেকে জন্ম নেওয়া জ্ঞান এবং সেটা কেবল জনদর্শন না, একাডেমিক দর্শনেরও আঁতুড়ঘর।’ বইটি প্রকাশ করেছে ‘প্রথমা’।

সম্পাদক

সম্পাদক


এই লেখকের সব লেখা